NRB Bangladeshi Success Stories
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীতে প্রথম বাংলাদেশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম খান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরিফুল এম খান। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মার্কিন বিমান বাহিনীতে (ইউএস এয়ার ফোর্স) সর্বোচ্চ পদে পদোন্নতি পেয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে আসীন হয়েছেন। গত ২০ আগস্ট এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর এই ঐতিহাসিক অভিষেক সম্পন্ন হয়।

শরিফুল এম খানের এই পদোন্নতির খবরটি নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রদূত এম ওসমান সিদ্দিক। তিনি তাঁর এক্স (পূর্বেকার টুইটার) পোস্টে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, "পেন্টাগনে গতকাল কর্নেল শরিফুল খানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে সম্মানিত ও গর্ববোধ করছি।" তিনি আরও জানান যে, তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ অব স্পেস অপারেশন্স, জেনারেল শন ব্রাটন

ওসমান সিদ্দিক জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী শরিফুল এম খানই হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান

 

প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনয়ন ও সামরিক জীবন

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরিফুল খানের এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তথ্যে জানানো হয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য একটি তালিকা অনুমোদন করেছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী, ১৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে মেজর জেনারেল পদে এবং ৫৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে মনোনীত করা হয়, যেখানে শরিফুল খানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম খান বর্তমানে পেন্টাগনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন ডোম অব আমেরিকা’র ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি হলো একটি বহুস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই পদে থেকে তাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা তৈরি, অবস্থানগত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

কর্মজীবনের পথচলা

শরিফুল খান ১৯৯৭ সালে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মার্কিন এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন। তাঁর দীর্ঘ সামরিক কর্মজীবন অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার স্বাক্ষর বহন করে। স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে তাঁর রয়েছে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ ব্যবস্থা, উৎক্ষেপণ এবং ন্যাশনাল রিকনিসেন্স অফিসে (এনআরও) কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

চাকরি জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন। কর্নেল পদে সাত বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর, আট বছর বাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্যতম সর্বোচ্চ পদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি লাভ করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম খানের এই অর্জন কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং যোগ্যতার প্রতীক। তাঁর পদোন্নতি বিদেশে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে এবং নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

3 months ago Admin 37
Trending Topics
Visa Rejection Reasons and Solutions
Ad Banner

News by Category

© 2025 NRB. All Rights Reserved.